ওমরখৈয়াম ও তাঁর রুবাইয়াৎ

ওমরখৈয়াম ও তাঁর রুবাইয়াৎ
© সুনীতি দেবনাথ
অনেক পুরনো একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে দেখে অনেকেই বিস্মিত হবেন। বাঙালির মননে চিন্তনে বিদেশী কবিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শিকড় গেড়ে যিনি আছেন, নিঃসন্দেহে বলা যায় তিনি শেক্সপিয়ার। বাঙালির চিত্তহরণে এরপরই উল্লেখ করতে হয় পারস্যের কবি ওমর খৈয়ামের কথা। অবশ্যই নবীন প্রজন্ম এই কবি সম্পর্কে কমই জানেন ধরে নিতে পারি। তাই এই কবিকে নতুনভাবে উপস্থাপনের এই প্রয়াস!
ওমরের প্রকৃত নাম ' গিয়াসুদ্দিন আবুল -ফতহ্ ওমর বিন ইব্রাহিম অল্ - খৈয়ামী '। আনুমানিক ১০৫০ খ্রীস্টাব্দে পারস্যের খোরাসান অঞ্চলের নীশাপুরে তাঁর জন্ম এবং ১১২৩ খ্রীস্টাব্দে এই নীশাপুরেই তাঁর জীবনাবসান হয়। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ওমরের সুখ্যাতি ছিল গণিতজ্ঞ হিসেবে। বীজগণিতের আরবী ভাষায় লেখা একটি বই এবং গণিত বিষয়ক কিছু সন্দর্ভের জন্য সমকালীন শ্রেষ্ঠ গণিতজ্ঞ বলে তাঁর খ্যাতি ছিলো। জ্যোতির্বিজ্ঞানে অশেষ কুশলতার জন্য ১০৭৪ খ্রীস্টাব্দে পারস্যের সুলতান মালিক শাহ ব্যাপক গবেষণার জন্য তাঁকে রাজসভায় নিয়ে আসেন। পারসিক পঞ্জিকা সংস্কার কাজ আরো সাতজন জ্যোতির্বিদ সহ ওমর দক্ষতার সঙ্গে করেন। এই সংস্কারের ফলে ১০৭৯ সালে তারিখ - ই - মালিক শাহী বা জালালী অব্দের প্রচলন হয়। গ্রীক দর্শন ও বিজ্ঞানে সুপণ্ডিত ছিলেন ওমর। সমকালীন ইতিহাসে তিনি গণিতজ্ঞ ও জ্যোতির্বিদ হিসেবে স্থান করে নিয়েছিলেন।
বর্তমানে ওমর খৈয়ামের সুপরিচিতি অবশ্যই কবি হিসেবে। ফারসী ভাষায় ৫০০ টি রুবাই বা চতুষ্পদী কবিতা তিনি লিখেছিলেন।কারো মতে এই সংখ্যা হাজার। আর এই রুবাই বা চতুষ্পদী কবিতায় ওমরের প্রকৃত জীবন দর্শনের পরিচয় মেলে। তাঁর রুবাইয়াতের কিছু সংখ্যকে অতীন্দ্রিয়তা ও সর্বেশ্বরবাদের ছাপ পাওয়া গেলেও অধিকাংশ রুবাইয়াতে তাঁর স্বকীয় অন্য ভাবনা ও ভাবধারার পরিচয় মেলে। সেই স্বকীয় ভাবধারা হচ্ছে চরম স্বাধীনচিন্তা এবং দুঃসাহসিক পরিচিতির নির্ভরতা। তিনি উলেমাদের প্রচারিত কঠোর আত্মসংযম ও অন্ধবিশ্বাস সঞ্জাত সংকীর্ণতা এবং সুফীদের প্রচারিত উৎকেন্দ্রিকতা, কপটতা ও অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে নিজের স্বাধীন চিন্তায় মতামত প্রকাশ করেছেন।
ওমর খৈয়ামের জীবন দর্শন পর্যালোচনা করলে বিস্মিত হতে হয়। জীবনকে তিনি যে দৃষ্টিতে দেখেছেন, জীবনকে ঘিরে থাকা সবকিছুকে তিনি যেভাবে বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্তে পৌঁছেন তাতে তিনি কালজয়ী কবির আখ্যা অবলীলায় পেয়ে গেছেন। দৈনন্দিন জীবনের সকল কোলাহল পেরিয়ে বিশ্ব বা সৃষ্টির কার্যক্রমের দিকে নজর দিলে এক অমোঘ শক্তির ভূমিকা যেন প্রতিভাত হয়ে ওঠে। যিনি চিরাচরিত ধ্যান ধারণার বাইরে কিছু ভাবেন না, তিনি এই অমোঘ শক্তির ইতিবাচকতাকে মেনে নেন। কিন্তু যিনি প্রচলিত ধ্যান ধারণাকে মানতে পারেন না, তিনি নৈর্ব্যক্তিকভাবে এই সৃষ্টি রহস্যকে ভাবতে চেষ্টা করেন, জটিলতর আর গভীরতর ব্যঞ্জনায় তা ধরা দেয় তাঁর কাছে। ওমর খৈয়ামের ক্ষেত্রে সেটাই হয়েছে।
সৃষ্টি আর ধ্বংস, জীবন আর মৃত্যুর পালা বদলের ইতিহাস চিরন্তন। যে শক্তি রচনা করে চলেছে এই বদলের ইতিহাস শেক্সপিয়ার সে শক্তিকে বলেছেন দৈবশক্তি। দার্শনিক শোপেনহাওয়ার সেটাকে বলেন ' এক অচেতন প্রেরণা বিশেষ '। আর ওমর সেটাকে বলেছেন সুচতুর, স্বেচ্ছাচারী এক বিরাট অভিনেতা। এই শক্তি অজ্ঞান অচেতন নয়, সজ্ঞান শক্তি। এই সজ্ঞান শক্তি আপন আনন্দে ভাঙ্গা গড়া করে। আপন মন নিয়ে সে ব্যস্ত, তোমার আমার অস্তিত্ব চেতনা, দুঃখ বেদনা সে পরিগণনা করে না। আমরা তার বিচিত্র লীলার উপকরণ মাত্র। আমাদের অস্তিত্বের প্রতি নৈর্ব্যক্তিক উপেক্ষার মানসিকতা সে শক্তির। আমরা যেন দাবার বড়ে, খেলোয়াড়ের ইচ্ছেয় আমাদের নড়ন চড়ন, জীবন মৃত্যু। ওমর মনে করেন মানুষের ক্ষুদ্র হৃদয়ের সুখ দুঃখের তরঙ্গাভিঘাত ঐ মহান শক্তিকে স্পর্শ করেনা। তেমনি আনন্দ কোলাহল,ভোগবিলাস ইত্যাদিও তার কানে পৌঁছাতে পারে না। তাই যে ভাবে এ জীবনে দুঃখ ভোগ করলে পরকালে স্বর্গসুখ পাবে, কিংবা যে ভাবে এ জীবনে নৈমিত্তিক সুখ ভোগ ত্যাগ করলে পরকালে নরকাগ্নি ভোগ করতে হবেনা — দুজনই ভ্রান্ত, ওমর ভাবতেন। তাঁর মতে দুঃখে জর্জরিত হয়ে আমাদের মৃত্যু হলেও অন্যরা এসে শূন্য স্থান পূর্ণ করে। বিধাতার কাছে আমাদের কি এমন মূল্য যে আমাদের জন্য স্বর্গপুরী বানিয়ে রাখবেন? গৃহী রান্নায় হাঁড়ি ব্যবহার করে, সে হাঁড়ি ভেঙ্গে গেলে অক্লেশে তা ফেলে দেয়। নতুন হাঁড়িতে রান্না শুরু করে। কবে কে ভাঙ্গা খোলামের জন্য স্বর্ণমন্দির তৈরি করে? একথা ওমর তাঁর কূজানামায় সুস্পষ্ট করে লিখেছেন। জীবনের অনিত্যতা সম্পর্কে কবি সুনিশ্চিত। ধর্ম শাস্ত্রের আশ্বাসকে তিনি মিথ্যা ভাবতেন। জীবনকে সুখ বঞ্চিত না করে পরিপূর্ণ উপভোগ করতে বলেন তিনি। যে মুহূর্ত পেছনে পড়ে আছে তা হাজারো প্রয়াসেও ফিরে আসবে না, তাই জীবনকে নিঃশেষে উপভোগ করতে বলেন তিনি। এই দৃষ্টিভঙ্গির জন্য তাঁকে নাস্তিক বলা যায়। তাঁর ঝোঁক ভারতীয় দর্শনের চার্বাকপন্থী ও গ্রীসের এপিকিউরিয়ানদের জীবনবেদের অনুসারী বলে মনে হয়। তবু তিনি ততোটা মুক্তকণ্ঠ ছিলেন না বলেই মনে হয়। তিনি যেন এই বিশ্বসংসারে জীবনের অনিত্যতা নিয়ে গভীর বেদনায় অন্তরে আহত। মনোযোগী পাঠক তাঁর রুবাইয়াৎ পড়লে এই গভীর বেদনাকে সহজেই অনুভব করতে পারেন আর ঠিক এখানেই নিয়তি বা বিধাতার বিরুদ্ধে তাঁর সুতীব্র প্রতিবাদ। আর এই প্রতিবাদ সর্বকালের আধুনিক ভাবাপন্ন কবিদের প্রতিবাদ। এই কারণে ওমর কালজয়ী কবি।
আজ অব্দি সমগ্র বিশ্বে ওমর খৈয়ামের পরিচিতি প্রবহমান। তাঁর জনপ্রিয়তার মূলে আছে তাঁর চতুষ্পদী কবিতা বা রুবাইয়াৎ। গণিতবিদ বা জ্যোতির্বিদ বলে তিনি এখন কেবল ইতিহাসের পাতায় আছেন। আজ যে রুবাইয়াতের জন্য ওমরের পৃথিবী জোড়া খ্যাতি তার পেছনে আছেন ইংরেজ কবি এডওয়ার্ড ফিটজজেরাল্ড। প্রাচ্যতত্ত্ববিদ্ ই.বি.কাওয়েলের সহায়তায় ফরাসি সাহিত্য তথা ওমরের সঙ্গে পরিচিতি ঘটে তাঁর। ওমরের কবিতার অনুবাদ করেন তিনি সমমর্মী কবি হয়ে। চারটি সংস্করণে এই অনুবাদ কবিতাগুলি ১৮৫৯, ১৮৬৪,১৮৭১ এবং ১৮৭৯ খ্রীস্টাব্দে প্রকাশিত হয়। ফিটজজেরাল্ডের অনূদিত ওমরের কবিতা কালক্রমে লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যাচ্ছিল। পরবর্তীতে কবি রোসেটি ও সুইনবার্ন এই অনুবাদ ও ওমরের কীর্তিকে বিশ্বময় ছড়িয়ে দিলেন। শিল্পী এডমণ্ড ডুলাক - এর চিত্রমালাও ওমরের জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছিল। আজ সারাবিশ্বে জনপ্রিয় কবি তিনি।
ওমরখৈয়ামের রুবাই বা চতুষ্পদী কবিতার সংখ্যা ৫০০টি। কোন কোন মতে তাঁর রুবাইয়াৎ - এর সংখ্যা একহাজার। সমকালের প্রেক্ষিতে দাঁড়িয়ে তাঁর মনন ও চিন্তন বহ সুদূরপ্রসারী।
ওমর খৈয়াম পাশ্চাত্যে খ্যাতি পেয়েছেন তাঁর নামে সংকলিত "রুবাইয়াৎ" অথবা "চতুষ্পদী কবিতা" -র মাধমে৷ (চতুষ্পদী কবিতা হচ্ছে চার পংক্তি বা চরণের কাব্য বিন্যাস। যেখানে ছন্দবিন্যাস প্রধানত কককক অথবা ককখক ;এটি আধ্যাত্মিক জ্ঞানে বিশেষ ছন্দোবদ্ধ )।
ওমরের কবিতার আবেদন তুলনামূলকভাবে কম আকৃষ্ট করেছিল পাশ্চাত্য মানসকে, যতক্ষণ না তাঁরা ফিটজেরাল্ড গ্রন্থিত"রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম" - এর নতুন জনপ্রিয় বাক্যের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। উল্লেখ্য 'রুবাই 'এক বচনাত্মক এবং ' রুবাইয়াৎ ' বহুবচনাত্মক।
ওমর মূলত একজন বিজ্ঞানী। জ্যোতির্বিজ্ঞান, অঙ্কশাস্ত্র, পদার্থবিদ্যা, ভূগোল নিয়ে গবেষণায় তিনি নিজেকে সর্বক্ষণ নিয়োজিত রাখলেও কবি হিসেবেই তাঁর বিশ্ব জনপ্রিয়তা। এর কারণ ওমরের কবিতা ভাষা আর ভাবের নক্সাচিত্র মাত্র নয়, গভীর দর্শন অনুভূতি থেকে জাত এগুলো । কবি হিসেবেই খৈয়ামের আবিষ্কর্তা ইউরোপের মানুষ। ফার্সি ভাষাভাষীদের পরিসীমার বাইরে ষোড়শ শতকে প্রথম টমাস হাইড নামে একজন ব্রিটিশ অরিয়েন্টালিস্টের মাধ্যমে খৈয়াম ইউরোপের বোদ্ধা মহলে জনপ্রিয়তা পান । তার প্রায় দু’শ বছর পর ১৮৫৯ সালে এডওয়ার্ড ফিটজজেরাল্ড নামে একজন ব্রিটিশ সাহিত্যিক প্রথম খৈয়ামের কবিতা সম্ভার ইংরেজিতে অনুবাদ করেন। বিখ্যাত এই অনুবাদ কর্ম কবি হিসেবে খৈয়ামের খ্যাতি বিশ্বময় ছড়িয়ে দেয়। ইউরোপের সমাজ সাহিত্যে অনেকখানি প্রভাব বিস্তার করে ওমরের কাব্য কৃতিত্ব । ওমরের কবিতা এতোটাই জনপ্রিয় হয় যে রাতারাতি সেখানে গড়ে ওঠে খৈয়াম ফ্যান ক্লাব, খৈয়াম বার, থিয়েটার ইত্যাদি।
‘রুবাই’ এক ধরনের চতুষ্পদী শ্লোক। ছোট আকৃতির সমিল সুরেলা ফার্সি কবিতা। এ চতুষ্পদী শ্লোকের প্রথম, দ্বিতীয় ও চর্তুপংক্তিতে অন্তর্মিল থাকে আর তৃতীয় পংক্তি থাকে স্বাধীন। অর্থাৎ এর মিল বিন্যাস হয় ‘ক-ক-খ-ক’। 'কককক ' মিলযুক্ত বিন্যাসও প্রাধান্য পেয়েছে। কবিতাগুলো স্বরবৃত্ত ছন্দে রচিত। মূল পর্বের মাত্রা সংখ্যা হয় সাধারণত ৩। লয় থাকে দ্রুত। রুবাই কবিতার জন্ম ইরানে। ইরানি আলঙ্কারিকেরা বলেন , এ কবিতার তৃতীয় চরণে মিল না দেওয়াতে চতুর্থ চরণে শেষ মিলে বেশি ঝোঁক পড়ে। শ্লোক সমাপ্তিতে পরিপূর্ণ গাম্ভীর্য ও তীক্ষ্ণতা পায়। এই খর্বাকৃতির রুবাইগুলোর মাধ্যমে কবি তাঁর মৃন্ময় চিন্তা-ভাবনা, বিবিধ অনুভূতি ও দর্শন তীব্রতারসের সহযোগে সুতীক্ষ্ণ প্রকাশে সক্ষম হন। দর্শন বা বিজ্ঞান দিয়ে যে ভাব প্রকাশ করা যায় না, খৈয়াম তা রুবাইয়ের অবয়বে তুলে ধরেছেন। তাই যুক্তি ও আবেগের সম্মিলনে, করুণ রসের প্রাবল্যে তাঁর রুবাইগুলো হয়েছে অনন্য।
মার্কিন কবি জেমস রাসেল লোয়েল খৈয়ামের রুবাই বা চতুষ্পদী কবিতাগুলোকে বলেছিলেন ‘চিন্তা-উদ্দীপক পারস্য উপসাগরের মণিমুক্তা’। ভাবুক ও চিন্তাবিদ ওমর অবকাশ যাপনের উদ্দেশ্যেই রুবাইগুলো সৃষ্টি করেছেন। অবকাশ যাপনের বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে অথবা যে কোনো কারণেই রুবাইগুলো রচনা করা হোক না কেন এই রুবাইগুলিতে ওমরের জীবন সম্পর্কে সুগভীর দৃষ্টিভঙ্গি পরিস্ফুট হয়েছে। ওমরের উপলব্ধি, এ জগতে মানুষের অর্থহীন আসা-যাওয়া । কোন এক অন্ধকার লোক থেকে মানুষ এ জগতে আবির্ভূত হয়ে স্বল্পকাল খেলা খেলে আবার মহাকালে বিলীন হয়ে যায়।
বাংলাভাষায় ওমরের রুবাইয়াৎ -এর অনুবাদের সুপ্রাচীন ঐতিহ্য আছে। ফার্সী থেকে যেমন অনুবাদ করা হয়েছে, তেমনি ইংরেজি অনুবাদ থেকেও বঙ্গানুবাদ করা হয়েছে। শ্রদ্ধার সঙ্গে সেগুলো স্মরণে রেখে আলোচনার শেষে শ্রদ্ধেয় অশোক ভট্টাচার্য অনূদিত কয়েকটি রুবাইয়াৎ সংযুক্ত করে আলোচনার সমাপ্তি টানা হবে।
১]
জাগো সখি! দেখ দূরে রজনীর পাত্রটির 'পরে প্রভাত দিয়েছে ছুঁড়ে শিলাখণ্ড আপনার করে :
তারকারা উড়ে গেছে, আর পুবের শিকারী সূর্য
উজ্জ্বল আলোর ফাঁদে সুলতানের মিনারকে ধরে ।
২]
প্রভাতের সন্ধিক্ষণে স্বপ্নে আমি শুনেছি যে কথা
সরাই - এর অভ্যন্তরে সহসা ধ্বনিত হলো তা —
'ওঠো! জাগো বন্ধুজন! পূর্ণ করো আপন পেয়ালা। বিলম্বে জীবনপাত্র হারাবে যে তার উচ্ছলতা। '
৩]
যারা তখন দাঁড়িয়ে ছিল সরাইখানার দ্বারে
যেমনি মোরগ ডাকলো তারা হাঁকলো চিৎকারে :
' দুয়ার খোলো ! থাকার সময় অল্প কত জানো,
আর একদা যাবার পরে ফিরতে কি কেউ পারে। '
৪]
বলতে বিস্ময় মানি, সেই মৃৎপাত্রের দলে
নিস্তব্ধে বিরাজ কেউ, কেউ বা অস্ফুটে কথা বলে—
সে দলের একজন চিৎকারে জিজ্ঞাসা করেছিল :
কেই বা কুমোর বলো, কেই বা পাত্রের মত চলে। '
৫]
হায়রে শেষে বসন্ত কি হারিয়ে যাবে গোলাপটিরই সাথে
যৌবন তার গন্ধ ভরা পাণ্ডুলিপি ঢাকবে আপন হাতে !
শাখার ' পরে কোকিল যে ঐ গাইছে বারে বারে
কে জানে হায়, উড়বে কখন, বসবে বা কার ছাদে।
কাজরী,
৫ মে, ২০১৬
.png)
0 comments: